-লালন ফকির বঙ্গের কেমন এনটিটি?
আমি ধার্মিকদেরও একটা সেকুলার মোরালিটির গুরুত্বের কথা কই। যে মোরালিটির রেফারেন্স ধর্মগ্রন্থ বা কোন টেক্সট নয়। আপনি নিজের কলব থেকে যার আওয়াজ শুনতে পাবেন। সমাজে লালন ফকির ধরনের এনটিটিগুলো হইলেন আমাদের এই ধরনের সম্ভব সেকুলার মোরালিটি। না মুসলমান, না হিন্দু, না অন্যকোন টেক্সট।
সমাজে লালন ধরনের সেকুলার ফেনোমেননগুলো আইডিওলজি না, তর্ক। এই ধরনের ফেনোমেনন দরকারিই, পাঁড় ধর্ম ও সেকুলারদের বাইরে। যা ঠিক ধর্ম না, ধর্মের ভেলুজগুলো নিয়া দরদি। ঠিক দর্শন না, কিন্তু এক ধরনের দার্শনিক এনটিটি। ঠিক সাহিত্য বা শিল্প না, কিন্তু এক ধরনের শিল্পই। ঠিক মুক্তি না, কিন্তু এক ধরনের মুক্তি। মানে ফর্মহীনতা। মুক্তি মানে তো ফর্মহীনতাই।
এই জায়গা থিকা, লালনের দ্বীন হওয়া সম্ভব না। লালন ধরনের ফেনোমেননগুলোর গুরুত্ব এই ফর্মহীনতা। যখন ফর্ম, মানে ধর্ম হইতে আসে, তখন এইটারে আমি ধর্মবাসনা বলি। সেকুলার রাষ্ট্র হইতে শুরু কইরা যে কোন ফর্মের ধর্ম হয়ে ওঠা বেশ ভয়ঙ্কর ব্যাপারই। এইটা লালনে যেমন, রবীন্দ্রনাথেও তাই। তখন এইটা আর মুক্তি থাকে না।
মানুষের কোন মুক্তিই পুরোপুরি মুক্তি না। কিন্তু একটা মুক্তির কাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার ভেতরে থাকা। সমাজে এই ধরনের সেকুলার মোরালিটির গুরুত্ব হল এই সম্ভাবনা, আর পাঁড় ধর্ম ও পাঁড় সেকুলাররের মধ্যে আলাপ ও বাহাছ বহাল রাখে। ফলে একটা কথাবার্তা ও মুক্তি সম্ভব এমন রাজনীতি ও সমাজ সম্ভাবনা তৈরী হয়। যেমন, খেলাফতের টাইমে হযরত আবুজর গিফারি ছিলেন এরকমই সেকুলার মোরালিটি, যা খেলাফতের ভেতরেই এমন একটা মুক্তি সম্ভাবনার কথা কইতেন।
#রিফাতহাসান #পুরনোদিনেরগান